ছাত্রীদের এই ফলাফল প্রত্যাশিত ছিল মন্তব্য করে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলছেন, মেয়েদের ভালো করার প্রবণতা আগে থেকেই লক্ষ্য করা গেছে, এবার তা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
আর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আশা করছেন, পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীতে ছাত্রীদের এই জয়জয়কর সাফল্যের ধারাবাহিকতা থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকেও।
অষ্টমের সমাপনী, অর্থাৎ জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার অংশ নেয় ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৯ জন। তাদের মধ্যে ৫৩.২৭ শতাংশ ছিল ছাত্রী, আর ৪৬.৭২ শতাংশ ছাত্র।
জেএসসি-জেডিসিতে এবার পাস করেছে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জন; পাসের হার ৯৩.০৬ শতাংশ।
পাস করা শিক্ষার্থীদের ৫৩.৩৪ শতাংশ ছাত্রী, আর ছাত্র ৪৬.৬৫ শতাংশ।
শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও ছাত্রদের পেছনে ফেলেছে অষ্টমের ছাত্রীরা।
জেএসসি-জেডিসিতে এবার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের ৫৭.০৪ শতাংশ ছাত্রী, আর ছাত্র ৪২.৯৫ শতাংশ।
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ীর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৫৩.৯৮ শতাংশ; আর ৪৬.০১ শতাংশ ছাত্র।
দুই ভাগ মিলিয়ে পঞ্চমের সমাপনীতে মোট পাস করেছে ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ২৫০ জন; পাসের হার ৯৮.২৮ শতাংশ।
উত্তীর্ণ এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪.০২ শতাংশ ছাত্রী, ৪৫.৯৭ শতাংশ ছাত্র।
প্রাথমিকে ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৫ হাজার ৯৪৮ জন মিলিয়ে পঞ্চমের মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৬ জন পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে।
এখানেও এগিয়ে আছে মেয়েরা। কৃতি এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪.৪১ শতাংশ ছাত্রী, আর ছাত্র ৪৫.৫৮ শতাংশ।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুধু মাধ্যমিক স্তরেই নয়, উচ্চ শিক্ষাতেও মেয়েদের হার দ্রুত বাড়ছে এবং তারা ভালো করছে।”
গত কয়েক বছর ধরে পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীতে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মেয়েরা জিপিএ-৫ পাওয়ায় এতদিন পিছিয়ে ছিল।
“মেয়েরা বাইরে যায় কম, লেখাপড়া করে বেশি। বাবা-মা ও শিক্ষকদের কথা বেশি শোনে। তাদের পড়াশোনায় মনযোগ বেশি থাকায় তারা ভালো করেছে।”
এবারের সার্বিক ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে অধ্যাপক মাহবুবুর বলেন, সব বোর্ডেই ভালো ফল হয়েছে, রেজাল্ট স্থিতিশীল আছে। এরপরেও যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো করতে পারেনি তার কারণ উদঘাটন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রীদের ভালো করার খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করেন। বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হল তার শিক্ষা।
“শিক্ষায় মেয়েদের উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এটা দৃশ্যমান সত্য, সারা জগৎ এটাকে স্বীকার করে, যদিও আমাদের অনেক ভুল-ক্রটি আছে। বিশ্ব সমাজেও এখন নারী শিক্ষার অগ্রগতি নিয়ে কথা হচ্ছে।”
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাধ্যমিকে মেয়েরা অনেক বেশি সিরিয়াস থাকে। যে সময়টায় ওই বয়সী কিশোর ছেলেরা বাইরে সময় কাটায়, বন্ধু-বান্ধব, আড্ডাবাজি করে, ফেইসবুকে থাকে ওই সময়ে মেয়েরা গুরুত্ব সহকারে লেখাপড়া করে।”
ছাত্রীদের ভালো ফলের পেছনে উপবৃত্তির বিষয়টিও কিছুটা প্রভাব রেখেছে বলে মনে করছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা। তবে তার মতে, সার্বিক ফলাফলে পাসের হার বৃদ্ধির যে প্রবণতা রয়েছে, তাতে পুরোপুরি মেধা যাচাই হয় না।
“পরীক্ষা মেধা যাচাইয়ের জন্য, সেটা আর নেই, এটা হয়ে গেছে গণহারে পাসের একটা বিষয়। তবে এটাও ঠিক, প্রাথমিক সমাপনীতে বাচ্চাদের ফেল কারানোর মানে হয় না। প্রাথমিক সমাপনী (পঞ্চম শ্রেণিতে) থাকাই উচিত নয়। প্রাথমিক সমাপনীতে দক্ষতাভিত্তিক যাচাই খুবই কম হয়।”
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন