বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬

খবর > প্রবাস ৩০০ বার কফি না খেলে বন্ধুত্ব নয়! ফাতেমা-তুজ-জোহরা, স্টকহোম সুইডেন থেকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম Published: 2016-10-06 17:45:39.0 BdST Updated: 2016-10-06 18:42:43.0 BdST Previous Next বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের কাছে সুইডেন ধনী রাষ্ট্র ও দাতা দেশ হিসেবে পরিচিত। নারী পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় ইউরোপের দেশ সুইডেন অনন্য। তবে রাজনীতি-অর্থনীতির ভারী বিষয়-আশয়ের বাইরেও সুইডেনকে বর্ণনা করার মতো আরো কিছু বিষয় আছে। আজ সে গল্পটাই বলবো।

শুরুতেই বলবো ‘ফিকা’র কথা।  ফিকা বিষয়টি একেবারেই সুইডেনের নিজস্ব সংস্কৃতি। শব্দটির কোন অনুবাদ নেই। ফিকা হলো কফির দোকানে বসে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের আড্ডা।

কফি ছাড়াও সেই আড্ডার সঙ্গী হয় দারুচিনি ও এলাচের তৈরি এক ধরনের বিশেষ মশলার প্রলেপ দেওয়া রুটি যার নাম ক্যানিয়েল বুল্লার। লাঞ্চ ব্রেকের আগে ও পরে এই সময়টা এদের চা-ই চাই। সব দিন হয় তো হয়ে ওঠে না, কিন্ত সম্ভব হলেই এরা সুযোগটা নেয়। সুইডিশরা গড়ে প্রত্যেকে বছরে মোটামুটি একশ পঞ্চাশ লিটার কফি পান করেন।

বলা হয়, কারো সঙ্গে তিন শতাধিক 'ফিকা'র পরে এরা বন্ধুত্ব করে। তার আগে নয়। কথাটা হয়তো সুইডিশদের অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে বলা হয়। হ্যাঁ, এরা ভীষণ রকম অন্তর্মুখী। তবে অপরিচিতের সঙ্গে। রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে চোখে চোখ পড়লেই মিষ্টি হেসে হাই-হ্যালো করবে, এবং ওখানেই শেষ। এর বেশি কিচ্ছু না! কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক এদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর বন্ধুর আড্ডায় এরা অনেক প্রাণবন্ত।

শুধু পারস্পরিক সম্পর্ক না, যে কোন ভাব প্রকাশে ও মত প্রকাশে এরা সবসময়ই মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে। সুইডিশ ভাষায় এটাকে বলে ‘লগম’, যার মানে মাঝামাঝি, খুব বেশি না আবার কম না। কারো সঙ্গে মতের মিলে এরা যেমন খুব উচ্ছ্বাস দেখায় না আবার অমিল হলেও এরা প্রতিক্রয়া দেখায় না। কোন বিষয়ে খুব তাড়াহুড়ো নেই, অথচ ডেডলাইনের আগেই কাজ শেষ হবে। নিয়ন্ত্রিত আচরণের এক ভালো উদাহরণ হতে পারে সুইডেনের নাগরিক।

আচরণের সঙ্গে এরা সময়কেও নিয়ন্ত্রণ করে কঠিন হাতে। সুইডেনের সময় পাঁচটা মানে পাঁচটাই, এর বেশি মোটেও না। সময় মেনে চলে বলেই, সময় শেষ হবার পরে এক মুহূর্তও তারা কাজ করে না। বরং অফিস শেষে ফিকা তাদের জন্য সেসময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে মনে হতে পারে এরা খুবই আরামপ্রিয়, কিন্তু আসল বিষয় হলো কোন কাজেই এরা অহেতুক টেনশন করে না।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুইডেন অনন্য। এক বছর মাতৃকালীন ছুটি ছাড়াও কমপক্ষে ৯০ দিন বাধ্যতামূলক পিতৃকালীন ছুটি দেওয়া হয়। সন্তানের সঙ্গে পিতার বন্ধন জোরালো করা এবং মা'কে বিশ্রাম দিতেই এই ব্যবস্থা।


সুইডেনে এখন শীত কড়া নাড়ছে। কিছু দিনের মধ্যেই দিন একেবারে ছোট হয়ে যাবে। এসময়টায় প্রতিটি বাড়ির জানালায় মোমবাতি বা ছোট ছোট বাতি জ্বলে।  ধারণা করা হয় জানালায় আলো জ্বালানোর এই রীতির প্রাচীন প্যাগান ধর্ম থেকে এসেছে।

শেষ করবো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়ে! আপনি যদি কোন সুইডিশ পরিবারে বেড়াতে যান, সদর দরজায় অবশ্যই জুতা খুলবেন। জুতা পরে ঘরে ঢোকা ভয়ানক অফেন্স হিসেবে দেখা হয়। এর পেছনে দুটো কারন থাকতে পারে। প্রথমটি খুবই যৌক্তিক, যেহেতু এখানে বরফ পড়ে তাই জুতার সঙ্গে পানি ও ময়লা এসে ঘর নোংরা করে দিতে পারে। আর দ্বিতীয় কারনটি হলো, ঘরকে এরা পবিত্র মনে করে। জুতা খুলে ঘরে ঢুকলে শুধু ঘরকেই না ঘরের মালিকের প্রতিও সম্মান দেখানো হলো বলে মনে করা হয়।

লেখক: প্রবাসী ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট
ছবি কৃতজ্ঞতা: মাসুদ উর রশীদ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বাংলাদেশ টু ভারত

আমাদের দেশের মন্ত্রিগণ কথায় কথায় ভারতের সাথে আমাদের দেশ কে কেনো তুলনা করেন । তাদের দেশ কোথায় আর আমাদের দেশ কোথায় ? আমাদের দেশের রাজস্ব কো...