বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

রহিঙ্গা মুসলিম

ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মায়ো মিন্ট থানকে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এ তাগাদা দেওয়া হয় বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ‌্যে দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশ পানে নতুন করে রোহিঙ্গা-স্রোতের মধ‌্যে ঢাকার পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হল।
কয়েক যুগ ধরে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করছে বাংলাদেশ। বারবার বলা সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার তাদের দেশের এই মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ফেরত নিতে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
এই প্রেক্ষাপটে এবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান উপেক্ষা করেই রোহিঙ্গাদের জন‌্য সীমান্ত খুলে না দেওয়ার পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ সরকার।
তার মধ‌্যেও গত ৯ অক্টোবর থেকে ৫০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে বলে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (বাইলেটারাল ও কনসুলার) কামরুল আহসান।
মন্ত্রণালয়ে তিনি মিন্ট থানের সঙ্গে কথা বলেন এবং মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে মুসলিম রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় ঢাকার ‌উদ্বেগের কথা তাকে জানান।
রাখাইন রাজ্যের তিনটি সীমান্ত পোস্টে গত ৯ অক্টোবর ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ হামলায় সেদেশের নয় সীমান্ত পুলিশের মৃত্যুর পর আশপাশের রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত জেলাগুলোয় দেশটির সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ‌্যমে ব‌্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এর পরপরই বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়ে যায়।
বৈঠকে বাংলাদেশে থাকা মিয়ানমারের সব নাগরিককে শিগগির ফেরত নেওয়ার জন্য দেশটির রাষ্ট্রদূতের কাছে দাবি জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কামরুল।
এই ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়।
রোহিঙ্গাদের এরকম দেশ ছাড়ার মূল কারণ খুঁজে দেখতেও মিয়ানমার সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান কনসুলার বিষয়ক সচিব কামরুল।
বৈঠকে গত মঙ্গলবার সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মধ্যে মাছ ধরা নৌকা ‘এফভি জানিভা খালেদা ১’ এ মিয়ানমারের একটি ট্রলার থেকে কোনো কারণ ছাড়াই গুলিবর্ষণের প্রতিবাদ জানানো হয়।
ওই গুলির ঘটনায় চার বাংলাদেশি জেলে গুরুতর আহত হন। ওই ট্রলারে থাকা অস্ত্রধারীরা আহত একজনসহ বাংলাদেশি জেলে ও তাদের মাছধরা নৌকাটি কাছের মিয়ানমারের একটি নৌঘাঁটিতে নিয়ে যায়। সেখানে মিয়ানমারের নৌসদস্যরা জেলেদের কাছে থাকা থাকা জিনিসপত্র রেখে দিয়ে চার ঘণ্টা পর তাদের মুক্তি দেয়।
ভবিষ্যতে মিয়ানমারের নৌসেনারা বাংলাদেশের নির্দোষ জেলেদের ওপর হামলা থেকে যেন বিরত থাকে, সেজন্য এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান সচিব কামরুল।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী এবং জেএসসি-জেডিসিতে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের পেছনে ফেলেছে মেয়েরা।

ছাত্রীদের এই ফলাফল প্রত্যাশিত ছিল মন্তব্য করে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলছেন, মেয়েদের ভালো করার প্রবণতা আগে থেকেই লক্ষ্য করা গেছে, এবার তা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
আর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আশা করছেন, পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীতে ছাত্রীদের এই জয়জয়কর সাফল‌্যের ধারাবাহিকতা থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকেও।

অষ্টমের সমাপনী, অর্থাৎ জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার অংশ নেয় ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৯ জন। তাদের মধ‌্যে ৫৩.২৭ শতাংশ ছিল ছাত্রী, আর ৪৬.৭২ শতাংশ ছাত্র।
জেএসসি-জেডিসিতে এবার পাস করেছে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জন; পাসের হার ৯৩.০৬ শতাংশ।
পাস করা শিক্ষার্থীদের ৫৩.৩৪ শতাংশ ছাত্রী, আর ছাত্র ৪৬.৬৫ শতাংশ।
শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও ছাত্রদের পেছনে ফেলেছে অষ্টমের ছাত্রীরা।
জেএসসি-জেডিসিতে এবার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের ৫৭.০৪ শতাংশ ছাত্রী, আর ছাত্র ৪২.৯৫ শতাংশ।
প্রাথমিক সমাপনীতে এবার অংশ নিয়েছিল ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৪ জন। আর ইবতেদায়ীতে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দেয়। সব মিলিয়ে পঞ্চমের সমাপনীতে পরীক্ষার্থী ছিল ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৪ জন।
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ীর পরীক্ষার্থীদের মধ‌্যে ছাত্রী ৫৩.৯৮ শতাংশ; আর ৪৬.০১ শতাংশ ছাত্র।
দুই ভাগ মিলিয়ে পঞ্চমের সমাপনীতে মোট পাস করেছে ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ২৫০ জন; পাসের হার ৯৮.২৮ শতাংশ।
উত্তীর্ণ এই শিক্ষার্থীদের মধ‌্যে ৫৪.০২ শতাংশ ছাত্রী, ৪৫.৯৭ শতাংশ ছাত্র।
প্রাথমিকে ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৫ হাজার ৯৪৮ জন মিলিয়ে পঞ্চমের মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৬ জন পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে।
এখানেও এগিয়ে আছে মেয়েরা। কৃতি এই শিক্ষার্থীদের মধ‌্যে ৫৪.৪১ শতাংশ ছাত্রী, আর ছাত্র ৪৫.৫৮ শতাংশ।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুধু মাধ্যমিক স্তরেই নয়, উচ্চ শিক্ষাতেও মেয়েদের হার দ্রুত বাড়ছে এবং তারা ভালো করছে।”
গত কয়েক বছর ধরে পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীতে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মেয়েরা জিপিএ-৫ পাওয়ায় এতদিন পিছিয়ে ছিল।
“মেয়েরা বাইরে যায় কম, লেখাপড়া করে বেশি। বাবা-মা ও শিক্ষকদের কথা বেশি শোনে। তাদের পড়াশোনায় মনযোগ বেশি থাকায় তারা ভালো করেছে।”
এবারের সার্বিক ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে অধ্যাপক মাহবুবুর বলেন, সব বোর্ডেই ভালো ফল হয়েছে, রেজাল্ট স্থিতিশীল আছে। এরপরেও যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো করতে পারেনি তার কারণ উদঘাটন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রীদের ভালো করার খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব‌্য থেকে উদ্ধৃত করেন। বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হল তার শিক্ষা।
“শিক্ষায় মেয়েদের উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এটা দৃশ্যমান সত্য, সারা জগৎ এটাকে স্বীকার করে, যদিও আমাদের অনেক ভুল-ক্রটি আছে। বিশ্ব সমাজেও এখন নারী শিক্ষার অগ্রগতি নিয়ে কথা হচ্ছে।”
অবশ‌্য শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে গিয়ে এবারের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “ছেলেদের সংখ্যা কেন কমে আসছে, এটা দেখতে হবে। কারণ আমরা জেন্ডার ইকোয়ালিটিতে বিশ্বাস করি।”
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাধ্যমিকে মেয়েরা অনেক বেশি সিরিয়াস থাকে। যে সময়টায় ওই বয়সী কিশোর ছেলেরা বাইরে সময় কাটায়, বন্ধু-বান্ধব, আড্ডাবাজি করে, ফেইসবুকে থাকে ওই সময়ে মেয়েরা গুরুত্ব সহকারে লেখাপড়া করে।”
ছাত্রীদের ভালো ফলের পেছনে উপবৃত্তির বিষয়টিও কিছুটা প্রভাব রেখেছে বলে মনে করছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা। তবে তার মতে, সার্বিক ফলাফলে পাসের হার বৃদ্ধির যে প্রবণতা রয়েছে, তাতে পুরোপুরি মেধা যাচাই হয় না।
“পরীক্ষা মেধা যাচাইয়ের জন্য, সেটা আর নেই, এটা হয়ে গেছে গণহারে পাসের একটা বিষয়। তবে এটাও ঠিক, প্রাথমিক সমাপনীতে বাচ্চাদের ফেল কারানোর মানে হয় না। প্রাথমিক সমাপনী (পঞ্চম শ্রেণিতে) থাকাই উচিত নয়। প্রাথমিক সমাপনীতে দক্ষতাভিত্তিক যাচাই খুবই কম হয়।”

বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০১৬

বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া গায়িকা টেলর সুইফট!

সম্প্রতি ফোর্বস ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্ব সংগীতে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া গায়িকা হলো ২৬ বছর বয়সী টেলর সুইফট! গত বছর তালিকার দুই নম্বরে ছিলেন গায়িকা সুইফট। জানা যায়, মার্কিন এই পপতারকার আয়ের বেশিরভাগ এসেছে ‘১৯৮৯’ অ্যালবাম প্রকাশের পর সংগীত সফরের বিভিন্ন কনসার্ট থেকেই। এবার তার আয় হয়েছে ১৭ কোটি মার্কিন ডলার। আর গত বছর তালিকায় শীর্ষে থাকা কেটি পেরি এবার আছেন তালিকার ছয় নম্বরে। 
গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ফোর্বসের তালিকায় শীর্ষ দশ গায়িকার মার্কিন ডলারে আয়ের অঙ্কগুলো হলো-
১. টেলর সুইফট: ১৭ কোটি
২. অ্যাডেল: সাড়ে ৮ কোটি
৩. ম্যাডোনা: ৭ কোটি ৬৫ লাখ
৪. রিয়ান্না: সাড়ে ৭ কোটি
৫. বিয়ন্সে: ৫ কোটি ৪০ লাখ
৬. কেটি পেরি: ৪ কোটি ১০ লাখ
৭. জেনিফার লোপেজ: ৩ কোটি ৯৫ লাখ
৮. ব্রিটনি স্পিয়ার্স: সাড়ে ৩ কোটি
৯. শানায়া টোয়াইন: ২ কোটি ৭৫ লাখ
১০. সেলিন ডিওন: ২ কোটি ৭০ লাখ
 বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার
গরিববান্ধব ১০ টাকা কেজির চাল এখন নেতাদের ঘরে ঘরে মিলছে। নানা কৌশলে চালের কার্ড হাতিয়ে তাদের অনেকেই এই লুটপাটে মেতেছেন। অভিযোগের পর অভিযোগ ওঠার পরও বন্ধ হচ্ছে না লুটের এ মচ্ছব।
৩৫ বিঘা জমির মালিকও হতদরিদ্র : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় হতদরিদ্রদের ১০টাকা কেজির চাল নিচ্ছেন প্রভাবশালী ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। নাচোল উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দেয়া তালিকায় প্রায় ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে অর্ধেকের বেশি কার্ড বিতরণ হয়েছে প্রভাবশালী ও দলীয় নেতাকর্মী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের নামে। ৫ বিঘা জমির মালিক থেকে  শুরু করে ৩০ বিঘা জমির মালিকের নামেও বিতরণ করা হয়েছে এই কার্ড। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নাচোল উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুলাহার গ্রামের আলহাজ হাফেজ উদ্দিনের ছেলে রাজু আহম্মেদ ৩৫ বিঘা জমির মালিক হলেও তাকে দেয়া হয়েছে হতদরিদ্রের কার্ড। একই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মৃত জানবক্সের ছেলে নুর-নবীর নামেও দেওয়া হয়েছে কার্ড। এলাকাবাসী জানান, নুরনবী ১৫-২০ বিঘা জমির মালিক এবং সিঙ্গাপুরে তার ছেলে চাকরি করে। একই অভিযোগ মৃত অহির বক্সের ছেলে কেরামত ও কিয়ামতের বিরুদ্ধেও। তারা উভয়ে ৩০ বিঘা করে জমির মালিক। এছাড়া ওই গ্রামের মৃত কাঙ্গালু মণ্ডলের ছেলে আবদুর রহমান ২০ বিঘা জমির মালিক হলেও তিনি হতদরিদ্রদের কার্ড নিয়েছেন। অন্যদিকে নেজামপুর ইউনিয়নের গোসাইপুর, টিকইল, কাজলকেশর গ্রামেও বিত্তবানদের দেয়া হয়েছে ১০টাকা কেজির চালের কার্ড। যাদেও মধ্যে স্কুল শিক্ষক আবদুল হাই সুইট, গোসাইপুর  গ্রামের ১৩ বিঘা জমির মালিক নজরুল ইসলামের ছেলে একরামুল হক, ৮বিঘা জমির মালিক মালা বক্সের ছেলে মনিরুল, ৭ বিঘা জমির মালিক সাফিউলের স্ত্রী পিয়ারা খাতুনসহ অনেকে রয়েছেন। এসব বিষয়ে সংসদ সদস্য মুহা. গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত করে গোমস্তাপুর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খাদ্য কর্মকর্তা প্রত্যাহার : নাটোর প্রতিনিধি জানান, হতদরিদ্রদের জন্য দেয়া সরকারের ১০ টাকা কেজির চাল উত্তোলনে ব্যাপক অনিময়ের অভিযোগে সদরের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দেশে চালের বাজার স্থিতিশীল রেখে সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র ব্যক্তিদের মাঝে কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য খাদ্য গুদাম থেকে চাল ওঠাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিভিন্ন অঙ্কের উেকাচের টাকা গুনতে হচ্ছে— এমন অভিযোগে তাকে গত মঙ্গলবার বিকালে প্রত্যাহার করা হয়। জানা গেছে, এ ব্যাপারে পাবনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুুল কাদেরকে প্রধান ও বগুড়ার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওমর ফারুককে সদস্য করে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাটোরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম জানান, গঠিত তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্রে জানা গেছে, হতদরিদ্রের জন্য ১০ টাকা কেজির চাল নাটোরের সাত উপজেলার ১৪৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ৬০০ টন বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের ছাতনী দিয়ার পয়েন্টের ডিলার কুতুব উদ্দিন জানান, তিনি ১০ টাকা কেজির বরাদ্দকৃত চালের ডিও লেটার (চাল উত্তোলনের ছাড়পত্র আদেশ) নিতে গেলে টনপ্রতি তার কাছে ২০০ টাকা করে মোট দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে অনুরোধ করে তিনি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জগদীশ চন্দ্রকে ১২০০ টাকা দিয়ে ছাড়পত্রটি গ্রহণ করেন। এরপরে খাদ্য গুদামে চাল উত্তোলন করতে গেলে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান দাবি করেন আরও দুই হাজার টাকা। সেখানে দিতে হয় এক হাজার টাকা। এ ছাড়াও খাদ্য গুদামের শ্রমিকদের দিতে হয় টনপ্রতি ১০০ টাকা করে। এতে হতদরিদ্রদের জন্য বিতরণের চাল উত্তোলনের সময় গুনতে হচ্ছে বিভিন্ন অঙ্কের উেকাচের টাকা। কুতুব উদ্দিন অভিযোগ করেন, এখন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক টেলিফোন করে সব ডিলারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে অথবা তাদের বাড়ি গিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে না মর্মে লিখিত নিচ্ছেন। একইভাবে কাফুরিয়ার জালাবাদ পয়েন্টের ডিলার রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, অভিযোগ করেই তিনি বিপাকে পড়েছেন। নানাভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বিভাগের চাল সরবরাহকারী অন্য আরও একজন ডিলার জানান, নাটোরের খাদ্য বিভাগ একটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেখানে টাকা না দিলে কোনো কাজই হয় না। ভাল ধান-চাল সরবরাহের সময়েও তারা নানান দোষ-ত্রুটি বের করলে টাকা দিয়ে সুরাহা করতে হয়। খাদ্যশস্য উত্তোলনের জন্য ডিও তোলা থেকে শুরু করে চাল, গম অথবা ধান গোডাউনে ঢোকানো বা বের করার প্রতিটি পর্বেই উেকাচের টাকা গুনতে হয়। তারা স্থায়ীভাবে ধান-চাল সরবরাহের ব্যবসা করার কারণে হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও জানান। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জগদীশ চন্দ্র বলেন, উেকাচ গ্রহণের অভিযোগ সঠিক নয়, মনগড়া কথা যে কেউ বলতেই পারেন। খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, তিনিও কোনো টাকা-পয়সা নেন না। তবে গুদামের শ্রমিকরা নিয়ে থাকতে পারেন। শ্রমিক সর্দার বাবু জানান, তারা ডিলারদের কাছ থেকে চেয়েই বকশিশ নেন।
অনিয়ম খতিয়ে দেখছে দুদক : চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নিম্ন আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ টাকা দরে চাল বিক্রির অনিয়ম খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  প্রাথমিকভাবে সংস্থাটি চাল বিক্রির বিষয়টি পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. আবু সাইদ বলেন, ‘আমরা আপাতত চাল বিক্রিতে অনিয়ম হচ্ছে কিনা সেটা পর্যবেক্ষণ করছি। পর্যবেক্ষণে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ধরা পড়লে আইনি পদক্ষেপ নেব।’ জানা গেছে, ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রিতে নিয়ম না মানার বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে দুদুকের পর্যবেক্ষক দল ছাড়াও রাউজান, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলায় দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক নিজে গিয়ে এই কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছেন। আনোয়ারা এবং বাঁশখালী উপজেলায় দুজন সহকারী পরিচালকের সমন্বয়ে গঠিত দুটি পৃথক টিম পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজারে উপ-পরিচালকের নেতৃত্বেও একটি টিম পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬

আইনা-বাজি এবার কাপালো আমেরিকা

আইনা-বাজি আইনা বাজি সিনেমা টি িএবার চলছে আমেরিকায় । আর এ ক যোগে চলছে মনিহার সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন হল গুলো তে ।

সাপ খেলা



ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঝাপান খেলা। শনিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিএলকে স্কুল প্রাঙ্গণে এ খেলার আয়োজন করে এলাকাবাসী।
বিষধর সাপ নিয়ে খেলা দেখতে স্কুল প্রাঙ্গণে ভীড় করেছিল শত শত মানুষ। আর দর্শকদের হাততালি আর উল্লাসে খেলা দেখাতে ব্যস্ত সাপুড়েরা।
কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাওয়া ঝাপান খেলা আবারো ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে শৈলকুপা উপজেলার বিএলকে এলাকাবাসী।
শনিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত বিএলকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী এ খেলা।
বাদ্যের তালে তালে ঝুড়ি থেকে বেড়িয়ে আসে ভয়ংকর গোখরা সাপ। উপসি’ত শত শত দর্শকের করতালি একটুও বিচলিত করতে পারে না ফণা তুলে এই নাচিয়েকে।
মনিবের ইশারা ইঙ্গিত তাকে ঠিক বুঝিয়ে দিয়েছে, শুধু মানুষকে আনন্দ দেয়ার খেলা নয় বরং আজ মর্যাদার লড়াই।
ঐতিহ্যবাহী এই সাপ খেলা দেখতে ভিড় করেন হাজারো দর্শক। বাদ পড়েনী মহিলা দর্শকরাও। ঢাক আর ডোলের বাদন আর নাছ গানে সাপুড়েরা দর্শকদের মন ভরিয়ে তোলেন।
৭ টি সাপুড়ে দলের শতাধিক সাপের মধ্যে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে প্রতিটি সাপ প্রদর্শন করে নিজেদের আকর্ষণীয় কসরত।
আর এই দুর্লভ দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। অনেকে জীবনে প্রথম আবার অনেকে অনেক দিন পর দেখছেন এ খেলা। এই ‘ঝাপান খেলা’ দেখে খুবই আনন্দিত হয় দর্শক।
শৈলকুপার অংশগ্রহণকারী সাপুড়ে লিটন জানান, এটা আমাদের বাপ দাদার পৈত্রিক পেশা। আমার আগে আমার বাবা তার আগে তার বাবা সকলেই সাপ খেলা দেখিয়ে জীবন ধারন করতেন।
আমরা বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াই। এ ধরনের আয়োজন হলে এলাকার সাপুড়েদের মিলন মেলায় অনেক ভাব বিনিময় ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপের খোঁজ খবর পাওয়া যায় বলে জানান বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাপুড়েরা।
এ ব্যাপারে আয়োজক সাবেক যুগ্ম-সচিব মীর সাহাব উদ্দিন বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এই খেলার আয়োজন।
কালের বিবর্তনে লোকাচারের অনেক কিছুই এখন হারিয়ে গেছে। কিন’ু ঝাপাং গানের কোনো হেরফের হয়নি। সেই মধ্যযুগ হয়ে একবিংশ শতাব্দীর মানুষের কাছে এখনো সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এই ঝাপাং  সাপের খেলা।

যশোরে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

 যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রাহাজ্জান সরদারকে (৪০) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় গদখালি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
রাহাজ্জান সরদার উপজেলার মঠবাড়ি-গদখালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন বলে জানা গেছে।
যশোর আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুল্লা আল মামুন তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে গদখালী বাজারের একটি সেলুনে ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (ইউপি) সদস্য রাহাজ্জান। এ সময় হেলমেট পরিহিত ২ জন মোটরসাইকেলে করে এসে তাকে লক্ষ্য করে ২ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাহাজ্জানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, এর আগে ৫ জুলাই বাড়িতে গিয়ে রাহাজ্জানের বড় ভাই হাসান সরদারকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৬

যশোরে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী বাজারে গতকাল সকালে প্রকাশ্যে রাহাজ্জান সরদার (৩৮) নামে এক ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত রাহাজ্জান সরদার গদখালী ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাহাজ্জানের বড় ভাই হাসান সরদারকেও ৫ জুলাই নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা।
নিহত রাহাজ্জানের ছোটভাই মিজানুর রহমান সরদার জানান, তার ভাই গদখালী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বর)। সকাল সোয়া ৯টার দিকে গদখালী বাজারের একটি সেলুনে সেভ করছিলেন তার ভাই। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়জনের মধ্যে দুজন    সেলুনে ঢুকে রাহাজ্জানকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন রাহাজ্জানকে উদ্ধার করে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রাহাজ্জানের মৃত্যু হয়েছে। ঝিকরগাছা থানার ওসি মাসুদ করিম বলেন, কী কারণে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। মিজানুর রহমান সরদার জানান, তার আরেক ভাই হাসান সরদার হত্যা মামলাটি দেখভাল করতেন রাহাজ্জান। ওই মামলার আসামিরাই তাকে হত্যা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, কী কারণে কারা কয়েক মাসের ব্যবধানে দুই ভাইকে হত্যা করলো তা তিনি ধারণা করতে পারছেন না।

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬

দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজারেরও বেশি হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে হাজিরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। শনিবার পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি হাজি পবিত্র হজ শেষে দেশে ফিরেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্সের মোট ২শ’টি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরে এসেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল বুলেটিনে এ তথ্য জানা গেছে
এশোব ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৪৪টি এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের ১৫৫টি। ফেরত আসা মোট ৭০হাজার ৩৪৮ জন বাংলাদেশি হাজির মদ মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৫ হাজার ২৪ জন হাজি রয়েছেন। উল্লেখ্য গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়। যা আগামী ১৭ অক্টোবর শেষ হবে। উল্লেখ্য চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ১লাখ ১হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি হজ পালন করেন। 
চলতি হজ মওসুমে সৌদি আরবে বাংলাদেশের সর্বমোট ৮১জন হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মধ্যে পুরুষ ৬২ জন ও নারী ১৯ জন। ৮১ জনের মধ্যে মক্কায় ৬১ জন, মদিনায় ১৩ জন, জেদ্দা ২ ও মিনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়।  

বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬

খবর > প্রবাস ৩০০ বার কফি না খেলে বন্ধুত্ব নয়! ফাতেমা-তুজ-জোহরা, স্টকহোম সুইডেন থেকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম Published: 2016-10-06 17:45:39.0 BdST Updated: 2016-10-06 18:42:43.0 BdST Previous Next বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের কাছে সুইডেন ধনী রাষ্ট্র ও দাতা দেশ হিসেবে পরিচিত। নারী পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় ইউরোপের দেশ সুইডেন অনন্য। তবে রাজনীতি-অর্থনীতির ভারী বিষয়-আশয়ের বাইরেও সুইডেনকে বর্ণনা করার মতো আরো কিছু বিষয় আছে। আজ সে গল্পটাই বলবো।

শুরুতেই বলবো ‘ফিকা’র কথা।  ফিকা বিষয়টি একেবারেই সুইডেনের নিজস্ব সংস্কৃতি। শব্দটির কোন অনুবাদ নেই। ফিকা হলো কফির দোকানে বসে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের আড্ডা।

কফি ছাড়াও সেই আড্ডার সঙ্গী হয় দারুচিনি ও এলাচের তৈরি এক ধরনের বিশেষ মশলার প্রলেপ দেওয়া রুটি যার নাম ক্যানিয়েল বুল্লার। লাঞ্চ ব্রেকের আগে ও পরে এই সময়টা এদের চা-ই চাই। সব দিন হয় তো হয়ে ওঠে না, কিন্ত সম্ভব হলেই এরা সুযোগটা নেয়। সুইডিশরা গড়ে প্রত্যেকে বছরে মোটামুটি একশ পঞ্চাশ লিটার কফি পান করেন।

বলা হয়, কারো সঙ্গে তিন শতাধিক 'ফিকা'র পরে এরা বন্ধুত্ব করে। তার আগে নয়। কথাটা হয়তো সুইডিশদের অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে বলা হয়। হ্যাঁ, এরা ভীষণ রকম অন্তর্মুখী। তবে অপরিচিতের সঙ্গে। রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে চোখে চোখ পড়লেই মিষ্টি হেসে হাই-হ্যালো করবে, এবং ওখানেই শেষ। এর বেশি কিচ্ছু না! কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক এদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর বন্ধুর আড্ডায় এরা অনেক প্রাণবন্ত।

শুধু পারস্পরিক সম্পর্ক না, যে কোন ভাব প্রকাশে ও মত প্রকাশে এরা সবসময়ই মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে। সুইডিশ ভাষায় এটাকে বলে ‘লগম’, যার মানে মাঝামাঝি, খুব বেশি না আবার কম না। কারো সঙ্গে মতের মিলে এরা যেমন খুব উচ্ছ্বাস দেখায় না আবার অমিল হলেও এরা প্রতিক্রয়া দেখায় না। কোন বিষয়ে খুব তাড়াহুড়ো নেই, অথচ ডেডলাইনের আগেই কাজ শেষ হবে। নিয়ন্ত্রিত আচরণের এক ভালো উদাহরণ হতে পারে সুইডেনের নাগরিক।

আচরণের সঙ্গে এরা সময়কেও নিয়ন্ত্রণ করে কঠিন হাতে। সুইডেনের সময় পাঁচটা মানে পাঁচটাই, এর বেশি মোটেও না। সময় মেনে চলে বলেই, সময় শেষ হবার পরে এক মুহূর্তও তারা কাজ করে না। বরং অফিস শেষে ফিকা তাদের জন্য সেসময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে মনে হতে পারে এরা খুবই আরামপ্রিয়, কিন্তু আসল বিষয় হলো কোন কাজেই এরা অহেতুক টেনশন করে না।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুইডেন অনন্য। এক বছর মাতৃকালীন ছুটি ছাড়াও কমপক্ষে ৯০ দিন বাধ্যতামূলক পিতৃকালীন ছুটি দেওয়া হয়। সন্তানের সঙ্গে পিতার বন্ধন জোরালো করা এবং মা'কে বিশ্রাম দিতেই এই ব্যবস্থা।


সুইডেনে এখন শীত কড়া নাড়ছে। কিছু দিনের মধ্যেই দিন একেবারে ছোট হয়ে যাবে। এসময়টায় প্রতিটি বাড়ির জানালায় মোমবাতি বা ছোট ছোট বাতি জ্বলে।  ধারণা করা হয় জানালায় আলো জ্বালানোর এই রীতির প্রাচীন প্যাগান ধর্ম থেকে এসেছে।

শেষ করবো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়ে! আপনি যদি কোন সুইডিশ পরিবারে বেড়াতে যান, সদর দরজায় অবশ্যই জুতা খুলবেন। জুতা পরে ঘরে ঢোকা ভয়ানক অফেন্স হিসেবে দেখা হয়। এর পেছনে দুটো কারন থাকতে পারে। প্রথমটি খুবই যৌক্তিক, যেহেতু এখানে বরফ পড়ে তাই জুতার সঙ্গে পানি ও ময়লা এসে ঘর নোংরা করে দিতে পারে। আর দ্বিতীয় কারনটি হলো, ঘরকে এরা পবিত্র মনে করে। জুতা খুলে ঘরে ঢুকলে শুধু ঘরকেই না ঘরের মালিকের প্রতিও সম্মান দেখানো হলো বলে মনে করা হয়।

লেখক: প্রবাসী ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট
ছবি কৃতজ্ঞতা: মাসুদ উর রশীদ

চট্টগ্রামে মাদকাসক্ত স্বামীকে খুনের পর থানায় উপস্থিত হয়ে ধরা দিয়েছেন এক নারী।

প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা

মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬


খবর > বাংলাদেশ

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার হামলায় আহত কলেজছাত্রী খাদিজা চরম সঙ্কটে

<a href='http://revive.bdnews24.com/www/delivery/ck.php?n=aa0edbd2&cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE' target='_blank'><img src='http://revive.bdnews24.com/www/delivery/avw.php?zoneid=188&cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE&n=aa0edbd2' border='0' alt='' /></a>

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬

১০ লাখ টাকার শপিং, আমলার স্ত্রীকে নোটিশ আয়কর দফতরের
অনলাইন ডেস্ক
  • Currently 0/5
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
১০ লাখ টাকার শপিং, আমলার স্ত্রীকে নোটিশ আয়কর দফতরের
শপিং করে বিপাকে পড়েছেন ভারতের এক আইএএস অফিসারের স্ত্রী। ১০ লাখ টাকার শপিং করায় মধ্যপ্রদেশের আইএএস অফিসারের স্ত্রীকে নোটিশ পাঠিয়েছে আয়কর দফতর।
এদিকে, আইএএস অফিসারের দাবি, ‘কম্পালসিভ বাইং ডিসঅর্ডার’ নামক মানসিক সমস্যায় ভোগার কারণেই হুটহাট শপিং করে ফেলেন তার স্ত্রী। আর এ কারণে মাঝে মাঝে বিপাকেও পড়তে হয়।
অনলাইনে যারা শপিং করেন, তাদের নজরে রাখার জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার রয়েছে আয়কর দফতরের। কোনো ব্যক্তির অনলাইন শপিংয়ের বহর দেখে তারা বুঝে নিতে পারে সেই ব্যক্তির আনুমানিক আয় কত হতে পারে। তারপর সেই টাকার পরিমাণ তার ট্যাক্স রিটার্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। আয়কর দফতর সূত্রে খবর, অনলাইনে শপিং করেছিলেন ওই অফিসারের স্ত্রী। বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে অর্থের পরিমাণ মেলানোর পরই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 


বিডি-প্রতিদিন/ ০২ অক্টোবর, ২০১৬/ আফরোজ
- See more at: http://www.bd-pratidin.com/mixter/2016/10/02/174009#sthash.1lyZSfn4.dpuf
টয়লেট এমন একটি জায়গা যেখানে গোপনীয়তা অপরিহার্য। আর সেই টয়লেট যদি জনসম্মুখে হয় তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু চিন্তা করুণতো এমন একটি পাবলিক টয়লেটের কথা যার বাইরে থেকে ভেতরের সব কিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কি ভিমড়ি খেলেন! নিজেকে একটু সামলে নিন। এমন ঘটনা সত্যি ঘটেছে চীনে।
প্রায়-স্বচ্ছ কাচের তৈরি পাবলিক টয়লেট চালু করা হয়েছে চীনে হুনান প্রদেশে এক পর্যটনকেন্দ্রে। এই টয়লেট সম্পূর্ন কাঁচের তৈরি আর সেই কাঁচ এতটাই স্বচ্ছ যেখানে 'টয়লেট ব্যবহার-রতদের' বাইরে থেকে দেখা যাবে এবং টয়লেটের ভেতরে বসে চার পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করা যাবে।
এসব টয়লেটে যেখানে মেয়েদের ও পুরুষদের টয়লেট পাশাপাশি আছে। এই দুই টয়লেটের মাঝখানে ব্যবধান রয়েছে। তবে যা খুব বড় কিছু তা কিন্তু নয়। ব্যবধান বলতে আছে দুই টয়লেটের মাঝে হালকা-অস্বচ্ছ কাচের দেয়াল।
হুনান প্রদেশে শিয়ান লেক পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে তোলা হয়েছে এই কাচের পাবলিক টয়লেট। এর আগে চীনে কাচের তৈরি সেতু, ওয়াকওয়ে ইত্যাদি জনপ্রিয়তা পাবার পরই বোধহয় তাদের মাথায় এই অভিনব আইডিয়াটি এসেছে। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে খুব কম লোকই কাচের টয়লেট ব্যবহার করার 'সাহস দেখিয়েছেন'।
এই কাঁচের টয়লেট চীনে নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, তারা কিছুতেই এমন টয়লেটে যেতে পারবেন না। অন্য অনেকে বলছেন, যখন আপনার সত্যি টয়লেট দরকার হবে, তখন আপনার পক্ষে সবকিছুই মেনে নেয়া সম্ভব হবে।  যত যাই বলুন না কেন, এই কথাটি কিন্তু মিথ্যে নয়।

বিডি-প্রতিদিন/২ অক্টোবর, ২০১৬/তাফসীর
- See more at: http://www.bd-pratidin.com/mixter/2016/10/02/173956#sthash.CnEwn4iP.dpuf

বাংলাদেশ টু ভারত

আমাদের দেশের মন্ত্রিগণ কথায় কথায় ভারতের সাথে আমাদের দেশ কে কেনো তুলনা করেন । তাদের দেশ কোথায় আর আমাদের দেশ কোথায় ? আমাদের দেশের রাজস্ব কো...